Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

প্রত্যেক কম্পিউটার সিস্টেমের জন্য অপারেটিং সিস্টেম হলোএকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সকল কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের অপারেটিং সিস্টেমের সাথে কমবেশি সম্পর্ক থাকে। অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া বর্তমান যুগে কোন কম্পিউটারে কল্পনা করা যায় না। অপারেটিং সিস্টেম হল মূলত একটি সিস্টেম সফটওয়্যার যা কম্পিউটারের হার্ডওয়ার এবং ব্যবহারকারীর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকে।
আজকের আর্টিকেলে আমরা জানব বর্তমানে কম্পিউটার এবং মোবাইল ডিভাইসে ব্যবহৃত জনপ্রিয় কিছু অপারেটিং সিস্টেম এর ব্যাখ্যা
অপারেটিং সিস্টেম হল একগুচ্ছ প্রোগ্রামের সমষ্টি যা কম্পিউটারের সকল কাজ কর্ম সম্পাদন করে থাকে এবং কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রন করে। অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কম্পিউটার চালানো অসম্ভব।
অপারেটিং সিস্টেম এর প্রধান কিছু কাজ হচ্ছে প্রসেস মানেজমেন্ট, মেইন মেমোরি মানেজমেন্ট, ফাইল ম্যানেজমেন্ট, ইনপুট আউটপুট ম্যানেজমেন্ট, সেকেন্ডারি স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি।
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম।
আই ও এস অপারেটিং সিস্টেম।
লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম।
ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম।
ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম।
ডস অপারেটিং সিস্টেম।
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম।
কাই অপারেটিং সিস্টেম।
হারমোনিওএস।
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম হল কম্পিউটারের সবথেকে বহুল ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম। এটি হলো জনপ্রিয় সফটওয়্যার কোম্পানি microsoft-এর মালিকানাধীন একটি অপারেটিং সিস্টেম। ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর মাইক্রোসফট প্রথম উইন্ডোজ নামের নতুন অপারেটিং সিস্টেম এর ঘোষণা দেয়তারপর উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের প্রথম ভারসন windows 1.0 ভাজারে আসে ১৯৮৫ সালে। পরবর্তীতে উইন্ডোজ 2000 ভার্শন ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রিলিজ হয়। যা শুধুমাত্র ইন্টেল প্রসেসর গুলো দ্বারা সাপোর্টকৃত ছিল। পরবর্তীতে মাইক্রোসফট 2001 সালের অক্টোবরে উইন্ডোজ 2000 ডেক্সটপ অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট এবং 95,98 রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে উইন্ডোজ এক্সপিকে রিলিজ করে। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে উইন্ডোজ সেভেন উইন্ডোজ ৮, ১০ এবং সর্বশেষ উইন্ডোজ ১১ রিলিজ হয়।
ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম
ম্যাক ওএস হলো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান অ্যাপল কম্পিউটারের ব্যবহৃত প্রাথমিক ওএস। মাইক্রোসফট এর উইন্ডোজের পরে বর্তমান বিশ্বে ব্যবহৃত দ্বিতীয় অপারেটিং সিস্টেম হলো ম্যাক ওএস। ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম সাধারণত অ্যাপলের উৎপাদিত কম্পিউটারে এবং ল্যাপটপে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
আইওএস হল একটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম যা অ্যাপেল কোম্পানি কর্তৃক ডিজাইন করা হয়েছে তাদের স্মার্টফোন আইফোনের জন্য । আইওএস এর স্ট্রাকচার মূলত ম্যাক ও এস এক্স ওপেনিং সিস্টেম এর স্ট্রাকচার যেখানে অতিরিক্ত ফাংশনালিটি যুক্ত হয়েছে মোবাইল ডিভাইসের জন্য।
বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত একটি অপারেটিং সিস্টেম হলো লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম। লিনাক্স হল একটি স্বাধীন আধুনিক মাল্টিটাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম যা ইউনিক্স এর বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। লিনাক্স হলো ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম যাকে ফ্রী সফট্ওয়্যারও বলা হয়। কারণ যে কেউই লিনাক্স এক্সেস করতে পারে এবং এটি অতি সহজলভ্য। পূর্বে শুধুমাত্র কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্ররাই লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করত কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের 5 থেকে 6 মিলিয়ন মেশিনে লিনাক্স চলছে। কারণ লিনাক্স হল পারফরমেন্স বৃদ্ধির অন্যতম উপায় এবং এতে খরচ কম। লিনাক্সের বিভিন্ন প্রকার ভার্সন রয়েছে তার মধ্যে কিছু কিছু ভার্সন ইন্টারনেটে ফ্রিতে পাওয়া যায়। ১৯৯১ সালে ফিনল্যান্ডের একজন ছাত্র লিনাস ট্রোভালস মাত্র ২২ বছর বয়সে কম্পিউটার বিশ্বের অন্যতম সেরা অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স এর প্রথম ভার্সন লেখেন।
আরো পড়ুন
ইউনিক্স হলো একটি ওপেনসোর্স নেটওয়ার্ক। এটি multi-user মাল্টিপ্রসেসিং, মাল্টিটাস্কিং এবং মাল্টিথ্রেডিং অপারেটিং সিস্টেম যা ১৯৬৯ সালে প্রথম তৈরি হয়। ইউনিক্স এর প্রথম ভার্সন বাজারে আসে ১৯৭১ সালের ৩ নভেম্বর।প্রথমে ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমটি অ্যাসেম্বলি ভাষায় লেখা হয়েছিল পরবর্তীতে 1974 সালের চতুর্থ সংরক্ষণে ইউনিক্স সি ভাষায় লেখা হয়েছিল।
বর্তমানে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক তথা ইন্টারনেট সার্ভার ইউনিক্স বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে।
১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রোসফট কর্পোরেশন কর্তৃক ডজ (DOS) অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা হয়। এটি সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেম। এটি টেক্সট বেসড বা কমান্ড প্রোম্পট বেসড অপারেটিং সিস্টেম এখানে কোন গ্রাফিক্যাল ব্যবহার নেই এটি কীবোর্ডের সাহায্যে কমান্ড এর মাধ্যমে কাজ করে। উইন্ডোজের প্রথম ভার্শন উইন্ডোজ 95- এটি ছিল ডস ভিত্তিক অপারেটিং সিষ্টেম।
বর্তমানে স্মার্টফোনে বহুল ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটি ওপেন হ্যান্ডসেট অ্যালাইনস ডিজাইন করেছিল যার অগ্রভাগে ছিল গুগোল। এটি মূলত ডেভলপ করা হয় অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট কম্পিউটারের জন্য। অ্যান্ড্রয়েড হল একটি ওপেনসোর্স প্রোগ্রাম এটি বিভিন্ন প্রকার মোবাইল প্ল্যাটফর্মের রান করে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের কোন এপ্লিকেশন তৈরি করার জন্য সফটওয়্যার ডিজাইনার গন জাভা ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে থাকে।
হারমোনিওএস
হারমোনিওএস হলো চিনা প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ের তৈরি একটি অপারেটিং সিস্টেম। হারমোনিওএস তৈরি করা হয়েছে ৯ আগস্ট ২০১৯ সালে। এটি হলো একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম। মাইক্রোকার্নেল-ভিত্তিক ডিস্ট্রিবিউটেড অপারেটিং সিস্টেম টি ইন্টারনেট অব থিংসস (আইওটি) ডিভাইসগুলির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে হুয়াওয়ের ডিভাইসগুলোতে জিমেইলসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ করে দেয় গুগল। তাছাড়া গুগলের মালিকানাধীন বহুল ব্যবহৃত স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেম অ্যানড্রয়েড ব্যবহার নিয়েও অনিশ্চিয়তায় পড়ে যায় হুয়াওয়ে। এই অবস্থায় বিকল্প প্লাটফর্ম হিসেবে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম হারমোনিওএস এর দিকে জোর দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম হলো কাইওএস। কাইওএস হলো লিনাক্স বেসড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম যা মূলত তৈরি করা হয়েছে ফিচার ফোন গুলোকে মোটামুটি স্মার্ট করার জন্য। হংকং এর প্রযুক্তি নির্মাতা কাইওএস টেকনোলজিস্ট লিমিটেড এটি ডেভেলপ করেছে। এর প্রগামগুলো এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভা এবং সি++ দিয়ে লেখা হয়েছে। ২০১৭ সালে এই অপারেটিং সিস্টেম টিকে অফিসিয়াল ভাবে রিলিজ করা হয়।
বর্তমানে এইচএমডি গ্লোবালের তৈরি বর্তমান নোকিয়া ফিচার-ফোনগুলোতে ডিফল্ট অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে কাইওএস ব্যাবহার করছে এইচএমডি গ্লোবাল। তাছারাও ইন্ডিয়ার জনপ্রিয় মোবাইল টেলিকম কম্পানি জিও তাদের ফিচার ফোন গুলি কাইওএস দিয়ে তৈরি করছে।
আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন
প্রিমিয়াম রিসোর্স ফ্রি পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন