Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

আসসালামু আলাইকুম।
শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুনাময় এবং অসীম দয়ালু।
আমরা সকলেই জানি বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের বাজার সর্বদাই স্থির। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ হওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী মোবাইল মার্কেটে বড় প্রভাব বিস্তার করেছে। চিনা স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানি হুয়াওয়ের উপরে এই যুদ্ধের বড় প্রভাব পড়েছে। আমেরিকাসহ বিশ্বব্যাপী হুয়াওয়ের মোবাইল মার্কেট শেয়ার কমে গিয়েছে। এবং বাংলাদেশে ও এর ব্যতিক্রম নয়।
আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব মার্কেট শেয়ারে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সেরা দশটি স্মার্ট ফোন ব্র্যান্ড নিয়ে।
best selling smartphone brand in Bangladesh 2021
| পজিশন | ব্রান্ড | মার্কেট শেয়ার |
| ১ | স্যামসাং | ৩৩.০৯ % |
| ২ | শাওমি | ১৬.০২ % |
| ৩ | হুয়াওয়ে | ১০.০৪ % |
| ৪ | অপ্পো | ৫. ৮৫ % |
| ৫ | মবিসেল | ৪.২৯ % |
| ৬ | রিয়েল মি | ৫.৮৫ % |
| ৭ | অ্যাপল | ২.৩৬ % |
| ৮ | সিম্ফোনি | ১.৯২ % |
| ৯ | নোকিয়া | ১.৯ % |
© তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
চাইনিজ ব্র্যান্ড আইটেল বর্তমানে বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেটে ১.৬২% মার্কেট শেয়ার দখল করতে সক্ষম হয়েছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেটে আইটেল খুব ভালো অবস্থান নিতে সক্ষম হয়েছে। আইটেল মূলত লো বাজেট এবং মধ্যম বাজেটের স্মার্টফোন উৎপাদন করে থাকে। এবং তারা ফিচার ফোন উৎপাদনেও অন্যান্য কোম্পানির সাথে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে চলছে।
৯. নোকিয়া
বিশ্বব্যাপী কোন এক সময়ের শীর্ষ মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নোকিয়ার কদর বাংলাদেশও ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু যুগের সাথে নিজেদের আপডেট করতে না পারায় মোবাইল মার্কেটে করুণ দশা হয়েছে কোম্পানিটির। নোকিয়া বর্তমানে বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেটে ১.৯% মার্কেট শেয়ার নিয়ে ৯ নম্বরে অবস্থান করছে।

বর্তমানে নকিয়া বাজারে বেশ কিছু মডেলের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল লাঞ্চ করেছে। কিন্তু ফোনগুলোর প্রাইস রিজেনেবল না হওয়ার কারণে ক্রেতা টানতে সক্ষম হচ্ছে না। এই প্রিমিয়াম মূল্যের কৌশলটি নকিয়াকে বাংলাদেশের মোবাইল বাজার থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। অন্যান্য মোবাইল ফোন ব্র্যান্ডকে টেক্কা দিতে বর্তমানে নকিয়া বাংলাদেশ তাদের নিজস্ব কারখানায় স্থাপন করেছে।
[su_posts template=”templates/list-loop.php” posts_per_page=”2″ offset=”2″ order=”desc”]
বেশ কয়েক বছর আগেও ইন্ডিয়ান মোবাইল ব্র্যান্ড সিম্ফোনি ছিল বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেট এর লিডার। কিন্তু বর্তমানে ২০২১ সালে মোবাইল মার্কেটে সিম্ফোনির শেয়ার রয়েছে মাত্র ১.৯২ শতাংশ যা গত বছরের তুলনায় ২.৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সিম্ফোনি সত্যিই অনেক দুর্দান্ত কাজ করছিল বাংলাদেশে কিন্তু বিগত কয়েক বছরে সিম্ফনির বাজার দর প্রচুর পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। এর মূল কারণ হলো চাইনিজ কিছু ব্র্যান্ডের উত্থান। চাইনিজ মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড শাওমি, ভিভো এবং রিয়েল মি লো বাজেট এবং মধ্যম বাজেটের মধ্যে ভালো স্মার্টফোন উৎপাদন করার কারণে গ্রাহকদের কাছে ইতিবাচক নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
বাজেটের মধ্যে ডিজাইন, পারফরম্যান্স এবং কোয়ালিটির দিক দিয়ে ভাল মোবাইল ফোন উৎপাদন করতে পারেনি সিম্ফোনি। এই কারণে তারা তাদের মার্কেট হারাতে বসেছে। সিম্ফনি বাংলাদেশে মোবাইল মার্কেট শেয়ারে বর্তমানে ৮ নাম্বারে অবস্থান করছে।
বিশ্বের বৃহত্তম প্রিমিয়াম কোয়ালিটির স্মার্টফোন নির্মাতা কম্পানি অ্যাপল বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে খুব ভাল অবস্থানে জেতে সক্ষম হয়েছে। তাদের জনপ্রিয়তার মূল কারণ হল তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু। অন্য কোনো ব্রান্ডের প্রতি মানুষের মনে এতটা প্রভাব নেই যা অ্যাপল প্রতি আছে।

অ্যাপলের উৎপাদিত আইফোন ১১ বাংলাদেশের মার্কেটে অন্যতম জনপ্রিয় ফ্লাগশিপ ফোন। দির্ঘ মেয়াদি সফটওয়্যার আপডেট এবং মানসম্মত প্রাইভেসির কারনে অ্যাপল গ্রাহক টানতে সক্ষম হয়েছে।
কয়েক বছর আগেও অ্যাপল বাংলাদেশের মার্কেট শেয়ারে শির্ষ দশের মধ্যে ছিলোনা। কিন্ত এখন ২০২১ সালে অ্যাপল বাংলাদেশের বাজারে ২.৯৬ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে ৭ম বৃহত্তম মোবাইল ফোন ব্রান্ড হতে সক্ষম হয়েছে।
রিয়েল মি ফাইভ আই মডেলের স্মার্টফোন লাঞ্চ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে যাত্রা শুরু করেছিল চীনের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েল মি। শুরুতেই দারুণ সাড়া ফেলেছিল রিয়েলমি ফাইব আই স্মার্ট ফোন। যাত্রা শুরু করার মাত্র এক বছরের মধ্যেই চীনের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেটে দারুন শক্তপোক্ত অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমানে 2021 সালে বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেটে ৩.৭৭ শতাংশ মার্কেট শেয়ার দখল করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত মধ্যম বাজেটের স্মার্টফোন উৎপাদন করার কারণে জনপ্রিয় হয়েছে রিয়েল মি। রিয়েলমি তাদের মূল প্রতিযোগী শাওমি কে পিছনে ফেলার জন্য কোয়ালিটিফুল স্মার্টফোন উৎপাদন করে যাচ্ছে।
কি এই নামটা দেখে অবাক হচ্ছেন? মবিসেল হলো একটি সাউথ আফ্রিকান মোবাইল ফোন কোম্পানি। তারা তাদের মোবাইল ফোনগুলোর চীন থেকে উৎপাদন করে থাকে। ২০১৯ সালে মোবাইল সেল ১.৮৩ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে অষ্টম অবস্থানে ছিল।

২০২১ সালে তারা বাংলাদেশের বাজারে ৪.২৯ শতাংশ মার্কেট শেয়ার দখল নিতে সক্ষম হয়েছে। শুনতে অবাক হলেও ভিভো, সিম্ফোনির মত বড় ব্র্যান্ডের নামের চেয়ে এগিয়ে আছে মবিসেল।
গুয়াংডং অপ্পো মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন গ্রুপ লিমিটেড একটি চায়না কোম্পানি। তারা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং মোবাইলফোন উৎপাদন করে থাকে। ২০১৯ সালে তারা চীনের শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হতে সক্ষম হয়েছে। এবং বিশ্বব্যাপী তারা পঞ্চম শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হতে সক্ষম হয়েছে।

৫.৮৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেটে ৪ নাম্বারে অবস্থান করছে অপ্পো।
অপ্পো বিশ্বব্যাপী একটি স্বীকৃত ব্র্যান্ড এবং এটি দুর্দান্ত কাজ করে চলেছে। ক্যামেরা কোয়ালিটির দিক দিয়ে তারা অন্যান্য ব্র্যান্ডের থেকে এগিয়ে আছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সকল জেলায় অপ্পো তাদের আউটলেট এবং কাস্টমার কেয়ার চালু করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও বিক্রয়ের দিক দিয়ে তারা শাওমি এবং হুয়াই এর সাথে কম্পিটিশন করে পারছে না।
[su_posts template=”templates/list-loop.php” posts_per_page=”2″ tax_term=”16,58,15,13″ offset=”2″ order=”desc”]
হুয়াওয়ে হলো চায়নার একটি বৃহত্তম মাল্টিন্যাশনাল টেকনোলজি কোম্পানি। সারা বিশ্বের বৃহত্তম টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। ২০১২ সালে তারা এরিকসনকে ছাড়িয়ে উপরে উঠে গিয়েছিল। ২০২০ সালে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং এবং অ্যাপলকে ছাড়িয়ে হুয়াওয়ে বিশ্বের শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়।
২০১৯ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে তারা হুয়াওয়ের সাথে কোন ধরনের ব্যবসা করবে না। যার ফলস্বরূপ হুয়াওয়ে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহার করতে সক্ষম হবে না। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বে হুয়াওয়ের মার্কেট ব্রান্ড ভ্যালুর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

২০১৯ সালে হুয়াওয়ে স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে বাংলাদেশের মার্কেটে দুইনাম্বার অবস্থান করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ওই ঘোষণার পরে বাংলাদেশের বাজারে হুয়াওয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। কারণ বাংলাদেশের সবথেকে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম হল অ্যান্ড্রয়েড। এই কারণে হুয়াওয়ে শাওমির কাছে তাদের দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়ে ফেলে।
বর্তমানে ১০.৪ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে তিন নম্বরে অবস্থান করছে। তবে তাদের দুর্দান্ত মানের কারণে এখনও বাংলাদেশের গ্রাহকদের কাছে পছন্দের একটি মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড হল হুয়াওয়ে।
শাওমি কর্পোরেশন হলো একটি চীনা মাল্টিন্যাশনাল ইলেকট্রনিক কোম্পানি যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০১০ সালে। এবং তখন থেকেই উচ্চমানের স্মার্টফোন তৈরি করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে শাওমি বাজেট ফোন বাজারে ছাড়ার জন্য রেডমি নামক একটি সাবধান প্রতিষ্ঠা করে। গ্রাহকরা এই ব্র্যান্ডকে অনেক পছন্দ করেছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে হুয়াওয়ের বাজার শেয়ার ডাউন হয়ে যায় এবং এই সুযোগটি শাওমি খুব ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে মার্কেটে তাদের উপরে অবস্থান করতে সক্ষম হয়। শাওমি বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং হলো বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে শির্ষ মোবাইল ফোন ব্রান্ড। মার্কেট শেয়ারের দিক থেকে স্যামসাং এর ধারে কাছেও নেই অন্য কোনো মোবাইল ফোন ব্রান্ড। স্যামসাং ৩৩.৩ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে স্মার্ট ফোন ব্রান্ডের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে।

যখন থেকে বাংলাদেশের বাজারে এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন লাঞ্চ হয়েছে তখন থেকেই স্যামসাং শীর্ষ অবস্থানে ছিলো। স্যামসাং তাদের ফোনের সাথে মানসম্মত ক্যামেরা এবং সুপার অ্যামুলেটেড ডিসপ্লে প্রভাইড করার জন্য গ্রহকদের পছন্দের ব্রান্ড হতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্যামসাং রিজেনেবল প্রাইসের মধ্যে তাদের M সিরিজ এবং A সিরিজের ফোন বাজরে এনেছে এবং ব্যাপক সারা ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সকল জেলায় তারা কাস্টমার সার্ভিস সেবা দিয়ে আসছে।
কেমন লেগেছে আজকের আর্টিকেলটি অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন
[su_button url=”https://facebook.com/bdtechdiary” background=”#593ed5″ color=”#ffffff” size=”4″ wide=”yes” center=”yes” icon=”icon: facebook-square” icon_color=”#ffffff”]লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে[/su_button]